বিভীষণের পুত্র তরণীসেনের গল্পটি পড়ুন
ক্রেতা যুগের কথা ৷অযোধ্যার রাজা দশরথ ৷তার তিন রানি-কৌশল্যা,কৈকয়ী ও সুমিত্রী৷কৌশল্যার পুত্র রাম সকলের বড় ৷কৈকয়ীর পুত্র ভরত৷সুমিত্রার দুই পুত্র লক্ষণ ও শত্রুঘ্ন৷পুত্রদের মধ্যে রাম সকলের বড় ৷কৈকয়ীর চক্রান্তে রাম পিতৃৃৃৃসত্য পালন করতে চৌদ্ধ বৎসরের জন্য বনে গমন করেন৷ তাঁর সাথে বনে যান স্ত্রী সীতা ও ভাই লক্ষণ৷বনবাসকালে রাক্ষস রাজা রাবণ সীতাকে একা পেয়ে হরণ করে লঙ্কায় এনে অশোক বনে বন্দী করে রাখেন৷ রাম সীতাকে উদ্ধার করতে সাগরে সেতু বন্ধন করে বানর বাহিনী নিয়ে সাগর পাড়ি দিয়ে লঙ্কা আক্রমন করেন৷রাবণের ভাই বিভীষণ রাবণকে অনুরোধ করেন রামের সাথে যুদ্ধ না করে সীতাকে ফিরিয়ে দিয়ে তার সঙ্গে সন্ধি করার জন্য৷কিন্তু দুষ্টমতি লঙ্কাপতি বিভীষণের কথায় কান না দিয়ে তাকে অপমান করে লঙ্কা থেকে তাড়িয়ে দেন৷ বিভীষণ রামের আশ্রয়ে চলে আসেন এবং রামের পক্ষে রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগদান করেন৷রাক্ষস বাহিনীর সাথে রাম লক্ষণের ভীষণ যুদ্ধ শুরু হলো৷যুদ্ধে রাক্ষসবাহিনীর বড় বড় বীর যোদ্ধারা সব প্রাণ ত্যাগ করল৷রাবণের একলক্ষ পুত্র ও সোয়া লক্ষ নাতি ছিল৷ সকলেই এই যুদ্ধে প্রাণত্যাগ করে৷ সোনার লঙ্কা পরিণত হয়েছে শশ্মানে ৷রাবন বিমর্ষ হয়ে রাজ সভায় বসে প্রমাদ গুনছেন৷এখন কী করা যায়?যুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য এমন কেউ নেই যে,যুদ্ধ করে লঙ্কাকে রক্ষা করবে৷বিভীষণ লঙ্কাপুরী ত্যাগ করলেও তার স্ত্রী সরমা ও পুত্র তরণীসেন লঙ্কাপুরীতেই অবস্থান করেছিলেন৷তরণীসেনের বয়স তখন বারো বছর৷ তরণীসেনের কাছে সংবাদ গেল যুদ্ধে রাক্ষসবাহিনীর পরাজয়ের কথা,লঙ্কার বীরদের আত্মত্যাগের কথা৷ সে তখন রাবণের দরবারে উপস্থিত হয়ে যুদ্ধযাত্রার অনুমতি প্রার্থনা করে৷রাবণ বালক তরণীকে কোনোমতে এই ভয়ংকর যুদ্ধ তে যাওয়ার অনুমতি দিতে চাইলেন না৷ কিন্তু তরণীসেন রাবণকে রাজি করিয়ে যুদ্ধ যাত্রা করেন৷ তরণী ছিল পিতা বিভীষণের মতই ধার্মিক৷সে তার রথের চূড়ায় রামনাম খচিত পতাকায় শোভিত করল৷ নিজের সারা অঙ্গে রাম নাম লিখে নামাবলি গায়ে দিয়ে রথে উঠে বসল ৷ রথ ছুটে চলল যুদ্ধের ময়দানে ৷রাম তাকিয়ে দেখেন রামনাম খচিত ধ্বজাধারী রথের উপর দ্বাদশ বর্ষীয় বালক যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত৷ রাবণের এহেন বিবেচনা দেখে রাম বিস্মিত হলেন৷তার গায়ে রাম নামের নামাবলি জড়ানো৷রাম বিভীষণকে বললেন--ওহে মিত্র বিভীষণ !কে এই বালক?সর্বদা মুখে রাম নাম জপ করছে৷আমি কি করে এর প্রতি বাণ নিক্ষেপ করি৷তখন বিভীষণ তরণীর আসল পরিচয় রামকে বললেন না৷বিভীষণ বললেন এ দূরন্ত রাক্ষস৷হে প্রভু রাম এ রাক্ষসের প্রতি তুমি বৈষ্ণব অস্ত্র নিক্ষেপ কর৷তাহলেই এ রাক্ষসের মৃৃৃত্যু হবে৷তরণীসেনকে লক্ষ্য করে রাম বাণ নিক্ষেপ করলেন৷ তরণী জয় রাম জয় রাম বলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল৷ বিভীষণ তরণীর প্রাণহীন দেহ কোলে তুলে হা পুত্র তরণীসেন বলে কেঁদে উঠলেন৷ রাম বিভিষণকে ভৎসনা করলেন৷এবং তরণীকে আর্শীবাদ করলেন৷তরণী রাক্ষস দেহ পরিত্যাগ করে দিব্যদেহ ধারণ করে বৈকুন্ঠে চলে গেল৷
বিভীষণের পুত্র তরণীসেনের গল্পটি পড়ুন
Reviewed by King
on
February 06, 2019
Rating:
Reviewed by King
on
February 06, 2019
Rating:

No comments: