বিবাহ ও বিবাহের মন্ত্র
হিন্দুসমাজে বিবাহ হলো ধর্মীয় জীবনের চর্চা ৷ স্ত্রী হচ্ছেন পুরুষের সহধর্মীনি ৷স্ত্রীকে বাদ দিয়ে পুরুষের কোনো ধর্মকার্যই সম্পন্ন হয় না৷ বিবাহ শব্দি বি-পূর্বক বহ্ ধাতু ও ঘঞ প্রত্যয়যোগে গঠিত৷ বহ্ ধাতুর অর্থ বহন করা এবং বি উপসর্গের অর্থ বিশেষরূপে ৷ সুতরাংবিবাহ শব্দের অর্থ বিশেষরূপে ভারবহন করা ৷বিবাহের ফলে পুরুষকে স্ত্রীর ভরণ পোষণ এবং মানসম্ভ্রম রক্ষার সার্বিক দায়িত্ব পালন করতে হয়৷
বিবাহের প্রকারভেদ--
স্মৃৃৃতিশাস্ত্রের বিখ্যাত গ্রন্থ মনুসংহিতায় আট প্রকার বিবাহের উল্লেখ আছে -ব্রাক্ষ ,দৈব,আর্ষ ,প্রাজাপাত্য,আসুর,গান্ধর্ব,রাক্ষস এবং পৈশাচ৷এই আট প্রকার বিবাহের মধ্যে ব্রাক্ষ,দৈব,আর্ষ ও প্রাজাপাত্য উল্লেখযোগ্য৷ বর্তমান সমাজে ব্রাক্ষবিবাহ প্রচলিত৷ কন্যাকে বস্ত্র দ্বারা আচ্ছাদন করে এবং অলংকার দ্বারা সজ্জিত করে বিদ্বান ও সদাচারী বরকে আমন্ত্রন করে কন্যা দান করাকে বলা হয় ব্রাক্ষবিবাহ৷সমাজে গান্ধর্ব বিবাহেরও প্রচলন আছে৷নারীপুরুষ পরস্পর শপথ করে মাল্যবিনিময়ের মাধ্যমে যে বিবাহ করে তার নাম গান্ধর্ব বিবাহ৷মহাভারতে দুষ্মন্ত ও শকুন্তলার বিবাহ গান্ধর্ব বিবাহের প্রকৃৃৃৃষ্ট উদাহরণ৷
বিবাহের সর্বশ্রেষ্ঠ মন্ত্র--
যদেতৎ হৃৃৃদয়ং তব তদস্তু হৃৃৃৃদয়ং মম৷
যদিদৎ হৃৃৃদয়ং মম, তদস্তু হৃদয়ং তব৷
(ছান্দোগ্য ব্রাক্ষন)
তোমার হৃৃদয় আমার হোক ,আমার হৃৃৃদয় হোক তোমার ৷এই মন্ত্রের মাধ্যমে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর একাত্মতার সম্পর্ক৷ জীবন হয় একসূত্রে গাঁথা৷ আমৃৃৃত্যু তারা সুখে দুঃখে একসাথে থাকার প্রতিজ্ঞা করে এবং জীবনের নতুন অধ্যায়ে শুরু হয় পথচলা৷
বিবাহের গুরুত্ব--
হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে সমগ্র জীবনে যে দশটি সংস্কার বা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান রয়েছে তম্মধ্যে বিবাহ শ্রেষ্ঠ৷বিবাহের দ্বারা পুরুষ সন্তানের জনক জনক হয়ে লাভ করেন পিতৃৃৃত্ব এবং নারী জননীরূপে লাভ করেন মাতৃৃত্ব ৷বিবাহের মাধ্যমে মাতা পিতা পুত্র কন্যা সকলকে নিয়ে গড়ে ওঠে সুখের সংসার ,যাকে কেন্দ্র করে প্রেমপ্রিতী ,স্নেহ ,বাৎসল্য প্রভৃৃৃৃতি মানব মনের সুকুমার বৃৃত্তিগুলো পরিপূর্ণরূপে বিকশিত হয়৷ এভাবে গড়ে ওঠে আলোকিত মানুষ তৈরির সূতিকাগার৷
বিবাহ অনুষ্ঠানের পর্বসমূহ---
হিন্দু বিবাহে কতগুলো বিধিবিধান শাস্ত্রীয় ,কতগুলো অনুষ্ঠান স্ত্রী আচার ৷হিন্দু বিবাহ কোনো চুক্তি নয় ,জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সংস্কারমূলক অধ্যায়৷ শুভলগ্নে নারায়ণ ,অগ্নি,গুরু,পুরোহিত,আত্মীয় এবং আমন্ত্রিত অতিথিগণকে সাক্ষী রেখে মঙ্গলমন্ত্রের উচ্চারণ ,উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনির মাধ্যমে বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়৷ বিয়ের অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয় যজ্ঞ এবং কতগুলো লোকাচারের মাধ্যমে৷বিবাহ অনুষ্ঠানের অনেক পর্ব আছে৷যেমন-আর্শীবাদ ,অধিবাস,বৃৃৃৃদ্ধিশ্রাদ্ধ,গায়ে হলুদ(গাত্র হরিদ্রা),বর বরণ,শুভদৃৃষ্টি,মালাবদল,সম্প্রদান,যজ্ঞানুষ্ঠান ও সাতপাকে বাঁধা ,সিঁথিতে বিবাহ চিহ্ন,সপ্তপদীগমন,বাসি বিয়ে,অষ্টমঙ্গলা প্রভৃৃৃৃতি ৷এর মধ্যে কিছু পর্ব শাস্ত্রীয় আর কিছু অঞ্চলভেদে লোকাচার৷যৌবনে বেদ ও পিতৃৃপূজা,হোম প্রভৃৃৃৃতির মাধ্যমে মন্ত্রোচ্চারণপূর্বক বর ও বধূর মিলনরূপ সংস্কারকে বলা হয় বিবাহ ৷দশবিদ সংস্কারের মধ্যে বর্তমানে গর্ভাদান পুংসবন সীমন্তোন্নয়ন প্রভৃৃৃৃতি সংস্কার লুপ্তপ্রায়৷
বিবাহ ও বিবাহের মন্ত্র
Reviewed by King
on
February 06, 2019
Rating:
No comments: