শ্রাদ্ধ সম্পর্কে জানুন
শ্রদ্ধা শব্দের সঙ্গে অণ্ প্রত্যয়যোগে শ্রাদ্ধ শব্দ গঠিত৷শ্রদ্ধার সঙ্গে যা দান করা হয় তাই শ্রাদ্ধ৷সুতরাং যেখানে শ্রদ্ধার সংযোগ নেই সেখানে আড়ম্বর থাকলেও শ্রাদ্ধ হয় না৷কোনো ব্যক্তির মৃৃৃত্যুর পরপ্রথমে যে শ্রাদ্ধ করণীয় তাকে বলা হয় আদ্যশ্রাদ্ধ৷অশৌচকাল উর্ত্তীন হলে তার পর দিন অনুষ্ঠিত হয় এই শ্রাদ্ধ ৷ যতদূর জানা যায়,নিমি হলো শ্রাদ্ধের প্রবর্তক ৷ আদ্য শাস্ত্রের সময় শাস্ত্রে ছয় আট ষোল প্রভৃৃৃতি বিভিন্ন দানের বিধান আছে৷ যার যেমন সামর্থ্য সে তেমন দানই করে থাকে৷আদ্য শ্রাদ্ধে গীতা ও মহাভারতের বিরাট পর্ব পাঠেরও বিধান আছে৷কোনো কোনো অঞ্চলে শ্রাদ্ধবাসরে কঠোপনিষদ পাঠ করা হয়৷আদ্যশ্রাদ্ধের পূর্ণ নাম আদ্য একোদ্দিষ্ট শ্রাদ্ধ ৷অর্থ্যাৎ মৃৃৃত ব্যক্তির উদ্দ্যেশে শ্রদ্ধার সাথে দান৷ আদ্য একোদ্দিষ্ট শ্রাদ্ধের প্রথমে প্রদীপ প্রজ্বলিত করে বাস্তপুরুষ যজ্ঞেশ্বর ও ভূস্বামীর পূজা করণীয়৷ অতঃপর মৃৃৃত ব্যক্তির উদ্দেশে শ্রাদ্ধ করতে হয়৷এই সময় আসন ,ছাতা, পাদুকা,বস্ত্র, অন্ন,জল ,তাম্বুল,মালা,বিছানা,প্রভৃৃতি মৃৃত ব্যক্তির নামে মন্ত্রোচ্চারণসহ উৎসর্গ করা হয়৷ পরে পিন্ডদান করে আদ্য একোদ্দিষ্ট শ্রাদ্ধ সমাপ্ত করা হয়৷ নারীরাও অশৌচ এবং চতুর্থী প্রভৃৃতি অনুষ্ঠান পালন করে থাকেন৷আদ্যশ্রাদ্ধের যে শুধু ধর্মীয় দিক থেকেই গুরুত্ব আছে তা নয়,পারিবারিক ও সামাজিক দিক থেকেও এর গুরুত্ব যথেষ্ট ৷কেউ মারা গেলে পাড়া প্রতিবেশি ,আত্মীয় স্বজন যেমন দেখতে আসেন তেমনি মৃৃতব্যাক্তির আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে তার পরিবার জ্ঞাতিবর্গের দুঃখের সাথে একাত্ম হন৷ এতে মানুষের মধ্যে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন আরও দৃৃৃঢ়ও হয় ৷সকলেই সমব্যথী হয়৷পাশাপাশি আত্মীয় স্বজনের একটি মিলনমেলাও হয় ৷একজনের প্রতি আরেকজনের শ্রদ্ধা ভালোবাসা বেড়ে যায়৷ভবিষৎ প্রজম্মের মধ্যে সামাজিকতার বীজ অঙ্কুরিত হয়৷
অভিন্ন বিধানের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব---
হিন্দু সমাজের আচার অনুষ্ঠান পালনে অভিন্ন বর্ণের মধ্যে কোনো প্রকার পার্থক্য না রেখে একই প্রকার বিধানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে৷ কেননা শ্রীমদ্ভভগবদগীতায় বলা হয়েছে জম্মভেদে নয় বরং কর্মভেদেই বর্ণবিভাজন হয়৷ অর্থ্যাৎ যে যেরকম পেশায় নিয়োজিত তার বর্ণটি সে অনুসারে হয়৷ এ প্রসঙ্গে শ্রীমদভগবদগীতায় ভগবান শ্রীকৃৃৃষ্ণ বলেছেন-চাতুর্বর্ণ্যং ময়া সৃৃষ্টং গুণকর্মবিভাগশঃ অর্থ্যাৎ গুণ ও কর্মের বিভাগ অনুসারে আমিই চারটি বর্ণ সৃৃৃৃষ্টি করেছি৷ব্রাক্ষন সন্তান হলেই যে একজন ব্রাক্ষন বলে গণ্য হবে এমনটি নয়৷সত্ত্বগুণ প্রভাবিত কোনো শুদ্রের সন্তানও ব্রাক্ষন পদবাচ্য হতে পারেন৷ আবার কোনো ব্রাক্ষন সন্তান তমঃ গুণে প্রভাবিত হলে সে শুদ্র বলে গণ্য হবেন৷সুতরাং বলা যায়, জাতি বা বর্ণভেদ বংশগত নয় ,গুণ ও কর্মগত৷
অশৌচ পালনের দিবস সংখ্যায় তারতম্য ও অনুষ্টানের ভিন্নতা যৌক্তিক নয়৷আর সেজন্যই বর্তমানে প্রায় সকল বর্ণের মানুষ দশ দিন অশৌচ পালন করে একাদশ কিংবা ত্রয়োদশ দিবসে শ্রদ্ধানুষ্ঠান করছেন৷
শ্রাদ্ধ সম্পর্কে জানুন
Reviewed by King
on
February 06, 2019
Rating:
Reviewed by King
on
February 06, 2019
Rating:

No comments: